কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড:
পাকিস্তানের সন্ত্রাসীদের গুলিতে সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা রমজান আলী (৫০) নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নাড়ালিয়া গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের দ্বিতীয় ছেলে।
নিহতের বোন মিলি আক্তার জানান, তার ভাই রমজান আলী দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পাকিস্তানের একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি করে আসছিলেন। প্রবাসে দীর্ঘ সময় কাটলেও দেশের কারো সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। মাঝেমধ্যে মা-বাবার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। তবে মা-বাবার মৃত্যুর পর গত ৮ বছর ধরে পরিবারের কারো সঙ্গেই তার আর কোনো যোগাযোগ ছিল না।
গত রবিবার রাতে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালালে গুলিতে তিনি মারা যান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অতি সম্প্রতি রমজান আলী নিজ দেশে ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং দেশে ফেরার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করেন। দূতাবাস থেকে তার ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য সীতাকুণ্ড থানায় চিঠি পাঠানো হয়। পরে ডিএসবি (জেলা গোয়েন্দা শাখা) পুলিশ তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়।
বাড়িতে বর্তমানে তার এক ভাই ও দুই বোন রয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে এসে বিয়ে করে সংসার পাতার তীব্র ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন রমজান আলী। পাকিস্তানে অবিবাহিত থাকায় তার বোনরা দেশে তার জন্য পাত্রীও খুঁজতে শুরু করেছিলেন। তাছাড়া দীর্ঘ ৩৫ বছর মা-বাবাকে না দেখার আক্ষেপ ঘুচিয়ে তাদের কবর জিয়ারত করার তীব্র বাসনাও তিনি ফোনে বোনকে জানিয়েছিলেন।
কিন্তু রমজানের সেই আশা আর পূরণ হলো না। এখন পরিবারের ইচ্ছা, মা-বাবার কবরের পাশে যেন তাকে দাফন করা যায়। সেজন্য তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন। সরকারের সহযোগিতা পেলে নিহতের মরদেহ দেশে এনে পরিবারের ইচ্ছে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তার বোন মিলি আক্তার। এজন্য তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।