
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে’ পুরনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে ১০ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ। একই সাথে তিনি নিহত শ্রমিকদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করেছেন।
সম্প্রতি ইয়ার্ড প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, “আমাদের যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে তার জন্য আমরা ‘ফেরদৌস স্টিল ফ্যামিলি’ আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা অক্লান্ত চেষ্টা করেছি একটি নিরাপদ পরিবেশে শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে। কারখানায় কর্মরত সবাই আমরা একই পরিবারের সদস্য, একে অপরের ব্যথায় ব্যথিত।” এ সময় তিনি নিহত পরিবারগুলোর পাশে সবসময় থাকার এবং ভবিষ্যতে সাধ্যমতো সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের কোনো দায় ছিল না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “যে সহকর্মীরা মারা গেছেন, এই দুর্ঘটনায় আমি কারো দোষ খুঁজে পাই না। গত ৩০-৪০ বছরে শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে এমন ঘটনার কোনো নজির নেই। এর জন্য আমরা কেউ একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না।” ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরির অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
ঝুঁকির ধরণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সাধারণত সচরাচর দুর্ঘটনাগুলো ইঞ্জিন রুম বা পাম্প রুমে ঘটে থাকে। তবে এই জাহাজটিতে সম্ভাব্য বিপজ্জনক স্থানটি আগেই নিরাপদে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তবুও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এক নতুন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, এমন ঘটনা যেন কোথাও আর না ঘটে।