
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন।
আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোড সংলগ্ন সাগর উপকূলে মো. ফেরদৌস ওয়াহিদের মালিকানাধীন ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামক জাহাজ ভাঙা কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়:
নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী শনিঠাকুরপাড়ার প্রদীপ জলদাসের ছেলে সানি জলদাস (১৮), সিদাম জলদাসের ছেলে পলাশ জলদাস (৩৫) এবং মৌলভীপাড়ার সেকান্দরের দুই ছেলে মনসুর আলী (৪৫) ও নাসির উদ্দিন (৪২)। নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন জামালপুরের ইদ্রিস, শিফট ইনচার্জ সুজন, হাবিব ও রানা।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় ও কর্মরত শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, সকালে ওই ইয়ার্ডে একটি পুরোনো এলপিজি গ্যাস পরিবাহী জাহাজের ট্যাংক কাটার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রথমে কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে আরও শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজনসহ প্রায় ২৫ জন আক্রান্ত হন। পরে খবর পেয়ে সহকর্মী, স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো জাহাজের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বা বাষ্পের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
ইয়ার্ডে ভাঙচুর:
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ইয়ার্ডের গেইটে জড়ো হন। কিন্তু ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ গেইট বন্ধ রাখায় ভেতরে ঢুকতে না পেরে ক্ষুব্ধ জনতা গেইট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মূল গেইট খুলে দেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা ইয়ার্ডের স্থাপনা ও অফিস কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। অফিসের কম্পিউটার, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয় এবং অনেকেই মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যান। এমনকি হামলাকারীদের হাত থেকে ভেতরের মসজিদটিও রক্ষা পায়নি; মসজিদের জানালার কাঁচও ভেঙে ফেলা হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য:
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তদন্ত ছাড়া ঠিক কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, “স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে কীভাবে এর সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। দুর্ঘটনায় ৯ শ্রমিক মারা গেছেন এবং কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেব এবং আহতদের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করব।”
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ডিআইজি, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, মেডিকেল টিম ও সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক দল ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তবে জাহাজে গ্যাসের তীব্রতা বেশি থাকায় উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। রাতে পুনরায় উদ্ধার অভিযান চালানো হতে পারে।