
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে সীতাকুণ্ড পৌরসভা যুবদল ও স্থানীয় বিএনপি। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরাবাদ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা বিএনপি ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা।
এ সময় নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং যেকোনো বিপদে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মোরসালিন বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি খাদ্য ও ত্রানসামগ্রী নিয়ে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পরবর্তীতে আরও ব্যাপকভাবে তাদের সহায়তা করা হবে। তিনি আরও জানান, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী ইতিমধ্যে প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পৌরসভা যুবদলের সদস্যসচিব জিয়া উদ্দীন বলেন, অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর নির্দেশেই পৌরসভা যুবদলের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে এই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমল কদর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্ল্যাহ, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব সালেহ আহমেদ সলু, বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান হিরু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জিয়া মঞ্চের সভাপতি অহিদুল ইসলাম চৌধুরী শরীফ, শাহাবুদ্দিন, জন্মাষ্টমী পরিষদের সদস্যসচিব সুনন্দ ভট্টাচার্য্য সাগর, ছাত্রদল নেতা আহসানুল আলম মুন্না, বাহার উদ্দিন নীরব, সীতাকুণ্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফ জিকু, সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক শিপনসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে আমিরাবাদ এলাকার মনু কোম্পানির বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছয়টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভানোর কাজ চলার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।