
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মডেল থানার বার্ষিক পরিদর্শন ও জনসাধারণের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম, বিপিএম ঘোষণা দিয়েছেন যে, মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের একমাত্র বাসস্থান হবে জেলখানা।
গত ০২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সীতাকুণ্ড মডেল থানার বার্ষিক পরিদর্শন শেষে উপজেলার ভাটেরখীল এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
থানা পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবার মান নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের দ্রুত, আন্তরিক ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। পাশাপাশি পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার সীতাকুণ্ড থানাধীন মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় এলাকাবাসী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সাধারণ মানুষকে ভীতি প্রদর্শন, মাদক কারবার এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার নানা অভিযোগ পুলিশ সুপারের সামনে তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং উপস্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ আইনানুগভাবে তদন্ত করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আশ্বাস দেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, কোনো অপরাধী, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি কিংবা আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো অপরাধ, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি কিংবা সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য পেলে তা দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা পুলিশের জরুরি সেবায় জানানোর জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সন্ত্রাস, মাদক ও সকল ধরনের অপরাধ দমনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও জনবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।