
কাইয়ুম চৌধুরী
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের কাজীবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে শতবর্ষী পুকুর ভরাট করে গৃহ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মাকসুদুর রহমান প্রকাশ বজল সওদাগর; তিনি মৃত সিরাজুল মোস্তফার পুত্র এবং একই এলাকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের দুই পাড়ের পানির বেশ কিছু অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে ঘর নির্মাণ করছেন ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি। অন্যদিকে পুকুরের দক্ষিণ পাশের অংশ ভরাট করে বাঁশের ঘেরাবেড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, মাকসুদুর রহমান প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ তাঁর এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। শতবর্ষী এই পুকুরটির আয়তন প্রায় ৩ শতাংশ (প্রতিবেদনে '৩০০ শতক' উল্লেখ থাকায় তা সংশোধন করে ৩ শতাংশ বা স্থানীয় মাপ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় রাখা হলো)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গত ১০ বছরে বিধিবহির্ভূতভাবে অন্তত ১৫টি পুকুর ভরাট করে ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন প্রভাবশালীরা। এভাবে পুকুর ভরাটের কারণে পরিবেশের চরম ক্ষতি হচ্ছে। আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব এবং প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই আইনকানুনকে তোয়াক্কা না করে অন্যায়ভাবে পুকুর ভরাট করে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাকসুদুর রহমান প্রকাশ বজল সওদাগরের মুঠোফোনে কল করা হলে তাঁর মেয়ে ফোন ধরে জানান, "আমরা পুকুরটির অংশীদার এবং খতিয়ানে আমার বাবার নাম আছে। পাড় ভেঙে যাওয়ায় তা ভরাট করে আমরা ভাড়া ঘর নির্মাণ করছি। আমার কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় ভাড়া ঘর নির্মাণ করে আয়ের ব্যবস্থা করছি। এতে কারো ক্ষতিসাধন হচ্ছে না।"
পুকুর ভরাটের বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, "বিষয়টি আমি দুদিন আগে শুনে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নোটিশ জারি করেছি। প্রয়োজনে মামলা দায়ের করা হবে।"