সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের রহমতনগরে মারামারি মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের অভিযানের সময় আতঙ্কিত হয়ে নুরুন্নাহার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিন আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রহমতনগর এলাকায় যুবদল সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সাব্বির (২৮) নামে এক কর্মী গুরুতর আহত হন এবং তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার বিবরণ:
মামলাটির তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশের একটি দল রহমতনগরে আসামি নাজিম ও রফিকের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের সাথে আসামিদের বাকবিতণ্ডা ও উচ্চবাচ্য হয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও কোলাহলে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা বৃদ্ধা নুরুন্নাহার আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি স্ট্রোক করে অচেতন হয়ে পড়ে যান। পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
থানা পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, "কিছুদিন আগে এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় সাব্বির নামে একজন গুরুতর আহত হওয়ায় থানায় একটি মামলা হয়। মামলার তদন্ত ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। সেখানে আসামিদের সাথে পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তিন-চার বাড়ি দূরের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী নুরুন্নাহার আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।"
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।