
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে টানা রাত-দিন অঝোর ধারায় বৃষ্টির ফলে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সীতাকুণ্ড সদর বাজার, ইদিলপুর, সোবাহানবাগ, পশ্চিম মহাদেবপুর, নামারবাজার, ভাটেরখীল, গুলিয়াখালী, পশ্চিম মুরাদপুর, পশ্চিম সৈয়দপুর, বগাচতর, বাগখালী ও মহানগরসহ উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে।

এছাড়া উপজেলার বাড়বকুণ্ড, কুমিরা ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকার পাহাড়ি জনবসতিগুলো পাহাড়ধসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এই অবস্থায় পাহাড়ের পাদদেশে বা পাহাড়-সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী সকলকে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক টিম।
যেসকল পরিবার উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলসহ জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, তাদেরও প্রয়োজনে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে ভারী বর্ষণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি জনবসতিকে পাহাড়ধসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের লোকজনকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যেকোনো ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত আছে।” তিনি বিপদমুক্ত স্থানে অবস্থান ও প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।
