
সৌদি আরবে মৃত্যু হওয়া সীতাকুণ্ডের প্রবাসী শফিউল আলমের মরদেহ দীর্ঘ ১৫ দিন পর দেশে ফিরেছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সৌদি আরব থেকে একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।
নিহত শফিউল আলম সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবির হাট খাদেমপাড়া গ্রামের মৃত আরিফুর রহমানের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার সৌদি আরব সময় রাত আনুমানিক ২টার দিকে হঠাৎ শফিউল আলমের বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক পুত্রসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগামী মাসেই শফিউল আলমের দেশে ফেরার কথা ছিল। সন্তানেরা বাবাকে বরণ করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, কিন্তু সেই অপেক্ষা আজ চিরস্থায়ী শোকে পরিণত হয়েছে। এদিকে তার অকাল মৃত্যুতে মাদামবিবির হাট খাদেমপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয়রা জানান, শফিউল আলম অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। প্রবাসে থেকেও তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। তার চলে যাওয়া পুরো এলাকাবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
নিহতের মেয়ের জামাই মামুনুর রশিদ জানান, “দূতাবাসের সহায়তায় আমরা তার মরদেহ দেশে আনতে পেরেছি। আজ (শনিবার) দুপুরে জোহরের নামাজের পর মাদামবিবির হাট (চেয়ারম্যান ঘাটার পূর্ব পাশে) খাদেমপাড়া গ্রামের কুতুব আব্বাস জামে মসজিদ মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।”
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। জীবনের সিংহভাগ সময় পরিবারের সুখের জন্য বিদেশের মাটিতে কাটিয়ে দেওয়া শফিউল আলমও ছিলেন সেই নিরলস যোদ্ধাদের একজন। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে প্রিয় মাতৃভূমি ও পরিবারের সান্নিধ্য পাওয়া হলো না তার।