
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিবেদক।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড টিএনটি অফিস সংলগ্ন ব্রিজের দক্ষিণ এবং ডিগ্রি কলেজের পূর্ব এলাকায় চরম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে অত্র এলাকার ঘরবাড়ি, একটি মহিলা মাদ্রাসাসহ দুটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমি মালিকদের খামখেয়ালিপনায় শতাধিক পরিবার এখন সম্পূর্ণ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সরেজমিনে অনুসদ্ধানে জানা যায়, টিএনটি অফিস সংলগ্ন এলাকায় একটি ব্রিজ থাকলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। অভিযোগ রয়েছে, ব্রিজের সংযোগ স্থলের পাশে ব্যক্তিগত মালিকানা জমিতে দেদারসে মাটি ভরাট এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করার কারণে ব্রিজের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
শুধু ব্রিজের দক্ষিণ এলাকাই নয়, এর উত্তর পাশে গুচ্ছগ্রাম হয়ে ছড়া (স্থানীয় খাল) পর্যন্ত যে সংযোগ ড্রেনটি ছিল, সেটিও স্থানীয় ভূমি দখলদারদের কবলে পড়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি নামার কোনো পথ না থাকায় কৃত্রিম এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"শুধু রাস্তায় বড় বড় ব্রিজ করলেই পানি নিষ্কাশনের কাজ সম্পন্ন হয় না। সংযোগ ড্রেন ছাড়া কোটি টাকা খরচ করে রাস্তায় ব্রিজ বানানো মানে সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। শহর বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আজ যে জমি খালি আছে, আগামীতে সেখানে বাড়ি-ঘর বা স্থাপনা নির্মাণ হবে এটাই স্বাভাবিক। কর্তৃপক্ষ যদি আগে থেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে সংযোগ ড্রেন নির্মাণ করত, তবে আজ আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।"
জলবদ্ধতার এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে স্থানীয়রা উপজেলা প্রকৌশলী মহোদয়কে সরেজমিনে এনে পরিস্থিতি দেখান। পরবর্তীতে আজ ৩০ জুন দুপুরে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়কে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সমাধান দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে: এলাকাবাসীকেই উদ্যোগ নিয়ে ড্রেন নির্মাণের জন্য জায়গা বের করে দিতে হবে। জায়গার সমস্যার সমাধান হলেই কেবল সরকারিভাবে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব।
এদিকে পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গার ওপর দিয়ে ড্রেন নিয়ে যেতে চাইলে কোনো জমির মালিকই তাদের জায়গা ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না। ফলে বিষয়টি এখন এক অন্ধগলিতে গিয়ে ঠেকেছে।
এক সপ্তাহ ধরে পানি বন্দি থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় নারী, শিশু ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। নোংরা ও পচা পানির কারণে এলাকায় চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে স্বাভাবিক চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, জনস্বার্থে প্রশাসনকে এখানে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি আইন অনুযায়ী পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই শুধু জনগণের ওপর দায় না চাপিয়ে, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত জমিদাতাদের সাথে বসে বা আইনি প্রক্রিয়ায় ড্রেনের জায়গা উদ্ধার করে অতি দ্রুত স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করাই এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায়।