
কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড:
সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে নিষ্পাপ শিশু ইরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ সচেতন নাগরিক সমাজ। আলোচিত এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরওয়ার আলম লাভলু জানান, গত ১৫ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামি বাবু শেখের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪, চট্টগ্রামের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়ার আদালতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। আজ মামলার শেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সোমবার (২৯ জুন) আসামি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
অ্যাডভোকেট সরওয়ার আলম লাভলু আরও বলেন, "একজন আইনজীবী হিসেবে নয়, একজন নাগরিক হিসেবেও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগ আন্তরিক হওয়ায় এই দ্রুত বিচার সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, বিজ্ঞ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করবেন।"
তবে তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আরও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইনজীবী বলেন, "পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় বিচার প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল মামলায় সব বিভাগের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রত্যাশা করছি।"
মামলাটি দ্রুত বিচার পর্যায়ে নিয়ে আসতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পাবলিক প্রসিকিউটর, পুলিশ প্রশাসন এবং সাংবাদিকসহ যারা বিচার কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরিশেষে, সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে সব অভিভাবকদের আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান অ্যাডভোকেট সরওয়ার আলম লাভলু।