
সিলেটের বিএনপি রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারী ও মুখোশধারী ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক এক প্রভাবশালী ও বিতর্কিত নেতা রজত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিএনপির ছদ্মবেশে দলে ভিড়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নষ্টের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এটি সিলেট বিএনপিকে ভেতর থেকে অস্থিতিশীল করার একটি সুকৌশলী ‘মাস্টারপ্ল্যান’।
ছাত্রলীগ থেকে ‘নব্য বিএনপি’: জুলাই-আগস্টের হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, রজত চক্রবর্তী অতীতে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরপরই ভোল পাল্টে তিনি ‘নব্য বিএনপি’ সেজে দলের শীর্ষস্থানীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সংস্পর্শে আসার চেষ্টা করছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, জুলাই-আগস্টের ঘটনায় নিহতের পরিবার ও ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতনের অভিযোগে জালালাবাদ থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
ধর্মীয় কার্ড ও নির্বাচনী এজেন্ডা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রজত চক্রবর্তী নিজেকে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের উত্তরসূরি হিসেবে জাহির করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজেকে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ‘নব্য নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া। মূলত, হিন্দু ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আগামী কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছেন তিনি। নেপথ্যে তিনি আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই কাজ করছেন বলে অনেকের ধারণা।
চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ
অনুপ্রবেশের পাশাপাশি রজত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘হিন্দু ট্রাস্ট’-এর নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মানুষকে জিম্মি ও ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ উপার্জনই তার প্রধান পেশা। তার এই কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে।
তৃণমূলের হুঁশিয়ারি ও দাবি
সিলেটের সচেতন রাজনৈতিক মহল ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা অবিলম্বে এই অনুপ্রবেশকারী, চাঁদাবাজ ও জুলাই আন্দোলনের হামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে রজত চক্রবর্তীর সাথে বিএনপির কোনো স্তরের নেতাকর্মীকে যোগাযোগ না রাখার জন্য কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির এক কর্মী বলেন, "সিলেটের শ্রদ্ধাভাজন বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। রজত চক্রবর্তীর মতো মুখোশধারী ছাত্রলীগের নেতার মাস্টারপ্ল্যান কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া যাবে না। তার মতো ব্যক্তিদের আশ্রয় দিলে সিলেট বিএনপির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সম্মান ধ্বংসের মুখে পড়বে।"
সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রজত চক্রবর্তীকে আইনের আওতায় আনা এবং দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।