বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ডা. তৈয়ব সিকদারের বিরুদ্ধে। গত ২৫ মে সন্ধ্যায় নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। উল্টো ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীকে মামলা প্রত্যাহার করতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত সোমবার (৮ জুন) নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরে অভিযুক্ত ডা. তৈয়ব সিকদারের দ্রুত বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহ আলম চৌধুরী বলেন,
গত ২৫ মে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি কেন্দ্রীয় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে গাড়িযোগে বাসায় ফিরছিলাম। পথে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালানো হয়। হাউজিং সোসাইটির 'ইলিজি টাওয়ার' সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ডা. তৈয়ব সিকদারের রাস্তার ওপর অবৈধভাবে টানানো একটি মোটা রশি আমার গলায় প্যাঁচিয়ে যায়। এতে আমি চলন্ত গাড়ি থেকে ছিটকে পিচঢালা রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হই।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দিলে পাঁচলাইশ থানার এসআই নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে আসেন। তখন সেখানে উপস্থিত ডা. তৈয়ব সিকদারের কাছে রাস্তায় রশি টানানোর কারণ জানতে চান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। প্রশ্নের উত্তরে তৈয়ব সিকদার দম্ভোক্তি করে বলেন, **‘মরে গেলে লাশ ফেলে দেওয়ার জন্য।’** এরপরই তৈয়ব সিকদার তার মোবাইল ফোনে জনৈক এক এসপির (পুলিশ সুপার) সঙ্গে কথা বলতে বলেন এসআই নুরুজ্জামানকে। সেই ফোনে কথা বলার পরপরই এসআই নুরুজ্জামান রহস্যজনকভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, হামলার পর স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই নৃশংস ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত মূল আসামি ডা. তৈয়ব সিকদারকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো আসামিপক্ষ মামলা প্রত্যাহার ও আপসের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তের কয়েকজন সহযোগী ঘটনাস্থলে এসে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তারা হুমকি দিয়ে বলে,মরে গেলে লাশ গুম করে ফেলা হতো।
সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলম চৌধুরী এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মামলা করতেও হয়রানির শিকার:
মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে শাহ আলম বলেন, ঘটনার পর মামলা করতে গেলে পাঁচলাইশ থানার এসআই নুরুজ্জামান মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে নগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসি) কঠোর হস্তক্ষেপে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নিতে বাধ্য হয়। মামলায় ডা. তৈয়ব সিকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্তের নির্দেশ দিলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা অদৃশ্য কারণে তদন্ত কাজে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী।