জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে গার্ডার ব্রিজ হতে যাচ্ছে চন্দনাইশের আব্দুল বারী হাটে। ফলে দীর্ঘ ৪৪ বছরের জনদুর্ভোগ ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে ।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চন্দনাইশ পৌরসভার আবদুল বারিহাট বেইলি ব্রিজটি প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ গার্ডার ব্রিজে রূপ নিচ্ছে। চলতি অর্থবছরেই এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে ১৯৮২ সালে মাত্র দেড় বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে আবদুল বারিহাট বেইলি ব্রিজটি স্থাপন করা হয়েছিল। আশ্বাসের পর আশ্বাস এলেও দীর্ঘ ৪৪ বছরেও এটিকে স্থায়ী পাকা ব্রিজে রূপ দেওয়া হয়নি। ফলে দেড় বছরের এই অস্থায়ী জরাজীর্ণ কাঠামো দিয়েই চার দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলেছে যানবাহন, ঘটেছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেইলি ব্রিজের পাটাতনগুলো জং ধরে মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। একাধিকবার জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও তা টেকসই হয়নি। ব্রিজের পশ্চিম পাশের কার্পেটিং ও ইট সরে গেছে এবং নিচের অংশ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে মাঝের পিলারটিও দেবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে স্প্যান ভেঙে পড়ার আতঙ্কে থাকেন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
উল্লেখ্য, এই ব্রিজটি গাছবাড়ীয়া-আবদুল বারিহাট সড়ক, বাগিচাহাট-উপজেলা সড়ক এবং ভগবান চৌধুরী হাট-আবদুল বারিহাট সড়ক, এই গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সড়কের মিলনকেন্দ্রে অবস্থিত। বিগত বিএনপির শাস-নামলে সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সওজ-এর নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের বেইলি ব্রিজ সাধারণত সর্বোচ্চ দেড় বছরের জন্য তৈরি করা হয় এবং ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকে। তবে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় লাখো মানুষ এই মরণফাঁদ দিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছিলেন।
২০২৬ সালে বর্তমান সরকার গঠনের পর স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ নিজ উদ্যোগে এই ব্রিজটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগে জোর তদবির চালান। তাঁরই ধারাবাহি ধারাবাহিকতায় অবশেষে বরাদ্দ মিলেছে।
সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ জানান, "দীর্ঘ ৪৪ বছর চন্দনাইশবাসী এই একটি ব্রিজের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে ১৯.৬৪ মিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। মূল ব্রিজের পাশাপাশি ব্রিজের উভয় পাশে আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল ও মজবুত কানেক্টিং সড়কও নির্মাণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন।"
দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, দরপত্রসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি অর্থ বছরেই এই স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের মূল কাজ মাঠে গড়াবে।