জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পবিত্র রমজানে চাহিদা বেশি থাকায় ভোক্তা পর্যায়ে চড়া দমে বিক্রি হচ্ছে লেবু। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লেবুর দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রমজানের দুই সপ্তাহ পূর্বে প্রতি পিস লেবু বিক্রি হয়েছে ৫-৬ টাকায়, এখন তা বেড়ে খুচরা বাজারে লেবু ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য ইফতারের লেবুর শরবত এখন বিলাসিতার এক পণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা হতাশা ও অবাক চোখে লেবুর দাম দেখছেন। চন্দনাইশ থানা বাজারে লেবু কিনতে আসা মো. ফরিদুল ইসরাম চৌধুরী বলেছেন, আগে ১৫-২০ টাকায় দুটি লেবু পেতাম, এখন একই লেবুর জন্য ৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। রমজান এলে ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দাম
বাড়িয়ে দেয়। এটি আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক কষ্টের।
চন্দনাইশ সদরের সিজান কাজেমী আশিক বলেছেন, রোজা রেখে ইফতারে লেবুর শরবত খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অতিরিক্ত দামের কারণে লেবু কিনতে পারছি না। এক জোড়া লেবুর জন্য যা দিতে হচ্ছে, সেই টাকা দিয়ে এক কেজি চাল কিনতে পারি। তাই লেবু না কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। হঠাৎ করেই লেবুর দাম তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি ও উৎপাদন কমে যাওয়া। আগে বাগান থেকে প্রতিভাড় লেবু কিনতে খরচ হতো প্রায় দেড় হাজার টাকা, এখন তা ৩ হাজায় টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে, প্রতিপিস লেবুর ক্রয়মূল্য ১৫ টাকার বেশি শি পড়ছে। তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে
হচ্ছে। লেবু চাষী মো. কামাল হোসেন বলেছেন, চন্দনাইশের পাহ-াড়ি এলাকায় প্রচুর লেবু উৎপাদন হয়। চলতি মৌসমে গাছে লেবুর উৎপাদন কম, কিন্তু রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাস পূর্বে প্রতি ভাড় লেবু ৭০০'শ থেকে ৮০০ হাজার টাকা ছিল, এখন তা কিনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২৫০০ হাজার টাকায়। প্রতি ভাড়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ পিস লেবু থাকে। ফলে খুচরা বাজারে প্রতিপিস লেবু ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই। চন্দনাইশের উৎপাদিত লেবু চট্টগ্রাম শহর এলাকাসহ বিভিন্ন উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে থাকে। চন্দনাইশের উৎপাদিত লেবু দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও সুস্বাদু।
রমজানজুড়ে ইফতারের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপকরণ হওয়ায় লেবুর চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন কম ও ক্রয়মূল্য বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় একটি পণ্য কিনতেও অতিরিক্ত খরচের চাপ অনুভব করছেন।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মো. আজাদ হোসেন বলেছেন, চন্দনাইশের পাহাড়ী এলাকায় ব্যপক ভাবে লেবু চাষ হয়। ফলনও ভালো হয়েছে, দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা বেশ খুশি। রমজান মাসে লেবুর চাহিদা বেশি থাকার কারণে দাম বৃদ্ধি পয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময় পরে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।