প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১১, ২০২৬, ৬:৩৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৩, ২০২৬, ৪:৫৬ পি.এম
সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে ধর্ষনের পর গলা কেটে গুরুত্বর আহত শিশুটির অবশেষে হাসপাতালে মৃত্যু

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড( চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড উপজেলার ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় নরপধু দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত গলাকেটে হত্যার চেষ্টায় গুরুতর আহত শিশু জান্নাতুল নিসা ইরা (৭)হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে চমেক হাসপাতালের আই সি ইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর চাচা সাংবাদিক রমিজ উদ্দিন আমাদের সময় কে জানায়, জান্নাতের অপারেশন শেষে ওয়ার্ডের সিটে রাখেন। গত সোমবার রাতে জান্নাতের স্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল,
সে শুধু পানি খেতে চেয়েছিল,ডাক্তারের নিষেধ থাকায় পানি দেইনি। ছটফট করতেছিল দেখে ডাক্তার গলায় সেট করা যন্ত্রটি চেক করে দেখেন ব্লক হয়ে গেছেন,তাই স্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আরেকটি যন্ত্র কিনে আনতে বলেন, রাত বেশী হওয়ায় কোথাও পাচ্ছিলেননা, দ্রুত ডাক্তার তাকে আইসিইউতে রাখেন ।
ভোররাতে সেহেরীর সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন জান্নাত বেচে নেই। সকল চেষ্টাই যেন ব্যর্থ হয়ে গেল।
রমিজ আলী জানায়,সকাল ১১ টায় জান্নাতকে মযনা তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন ডাক্তার। মযনা তদন্তের প্রকৃয়া চলছে সাড়ে ১১ টায়।
এদিকে জান্নাতুল ইরার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় চলছে,নরপশু হত্যাকারীকে খুজে বের করে ফাঁসীর দাবী করছে। নিহত ইরা কুমিরা ইউনিয়নের মাষ্টার পাড়া গ্রামের মোঃ মাইনুলের কন্যা।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিবুল জানায়, শিশুটির মৃত্যুর সংবাদ আমাদের কে মর্মাহত করেছে।আমরা আশাবাদী ছিলাম শিশুটি বেচে থাকবেন।তাকে মোটামোটি কিছুটা স্বাভাবিক লাগছিল। ইশারায় কিছু বুঝাতে চেয়েছিল, আমরা তার সুস্হতার পর জবান বন্দী নেয়ার অপেক্ষায় ছিলাম।
দূর্ভাগ্য এর আগেই শিশুটি চলে গেলেন। তবে পুলিশে তদন্ত চলছে খুনির রক্ষা হবে হবেনা।
জান্নাতের বাড়ী মাষ্টার পাড়ার লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সবাই জান্নাতের মরদেহ আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
আছর নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, করব খুরার কাজ ও শেষ।
এলাকার যুব দলের নেতা ফজলুল করিম চৌধুরী জানায়,আমরা লজ্জিত,আমরা মর্মাহত। এমন পশুত্ব কাজ মানুষ কিভাবে করে? খুনীকে সনাক্ত করে ফাঁসীর দাবী জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার নিকট পরিচিত কেউ জান্নাতুল নিসা ইরা (৭)কে বেড়ানোর নাম করে ইকো পার্কে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষন করে গলা ধরা পরার ভয়ে তারে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে। মরে গেছেন মনে করে পাহাড়ে ফেলে চলে যায়। শিশুটি জ্ঞান ফিরে আসলে পার্কের পাহাড় থেকে রাস্তায় আসার পর এক ড্রাইভার তাকে দেখে সীতাকুণ্ড হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখানে প্রাথমিক চিকিতসা করে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করলে প্রায় ১৬ ঘন্টার পর মৃত্যু বরণ করেন।
Copyright © 2026 দৈনিক দেশি নিউজ 24. All rights reserved.