কাইয়ুম চৌধুরী,সীতাকুণ্ডঃ
চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড,পাহাড়তলী,আকরবশাহ আংশিক সংসদীয় আসনের রয়েছে মোট ৮ জন প্রার্থী,তবে ভোট লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর মধ্যে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি) এর ধানের শীষ প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ এবং জামায়াতে ইসলাম এর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রয়েছেন সাবেক চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আনোয়ার সিদ্দিকী চৌধুরী।
দুজনেরই পারিবারিক,রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষনার পর পরই বিএনপি ও জামায়াত প্রচার প্রচারনায় ছিল মুখর। সভা সমাবেশ,গনসংযোগ,উঠান বৈঠক, বিয়ে শাদী, মেজবান,জানাজায় অংশগ্রহন ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম দিকে নির্বাচন হবে কি হবেনা এমন সংশয় থাকলেও নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসার পর থেকেই এই সংশয় কেটে যায়।
তোড়জোড় দিয়ে নেমে পড়ে ভোটারদের মন জয় করতে মাঠে ময়দানে,বাড়ীঘরে,মসজিদ, মন্দিরে। বিএনপির প্রথম মনোনয়ন পেয়েছিলেন চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী সালাউদ্দিন। তিনি মনোনয়ন পাওয়ার সাথে সাথে নেমে পড়েন নির্বাচনী মাঠে।পোষ্টার,ব্যানারে ছেয়ে দেন সীতাকুণ্ড আনাচে কানাচে। তবে তিনি ভোটারদের কে তাও বলেন, এই আসন আমরা আসলাম চৌধুরীর জন্য ঠিক করেছি,তিনি কিছু মামলার জটিলতা কেটে মনোনয়ন পেলে আমি ছেড়ে দেবো এবং তাঁর সাথে কাজ করবো। বিএনপি শেষ মূহুর্তে মনোনয়ন পরিবর্তন করে লায়ন আসলাম চৌধুরীকেই মনোনয়ন দিল। এর পর তিনি পড়লের প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলাম প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়ন বিরোধী মামলার ঘেরাকলে। রায়,আপিল,আবার রায়,এভাবে কেটে যায়,ফেব্রুয়ারীর ৫ তারিখ প্রযন্ত।সর্বশেষ রায় ভোট করতে পারবে তবে রায় স্হগিত থাকবে এমনটাই জানা গেছে।
এরপর শুরু হলো মিছিল, মিটিং এর শো-ডাউন টু শো- ডাউন। সর্বশেষ গন মিছিলগুলো ছিল বিএনপির চোখে পড়ার মতো,তবে পিছিয়ে ছিলনা জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও,রাত,দিন টানা গনসংযোগ,মিছিল,মিটিং মুখরিত রেখেছেন সীতাকুণ্ড প্রতিটি ইউনিয়নকে।তিনি জামায়াতে আমীর ড,শফিকুল ইসলাম কে এনে বিশাল জনসভা করেছেন জেলার প্রার্থীদের কে নিয়ে।
এবার গোপন ভোট হওয়ার পর ফলাফল দেখার পালা। তবে দুজনই আশাবাদি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। দুজনেই সুষ্ঠ ও নিরপক্ষ ভোট চান প্রসাশনের কাছে। জনগন যেই রায় দিবে তাই মেনে নেবেন দুজনেই।
বিএনপি ধানের শীষ প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এফসি এ আমাদের সময় কে বলেন, সীতাকুণ্ড উন্নয়নে বিএনপির বিশেষ অবদান রয়েছে বিগত সময়ে।মহাসড়ক নির্মান,বেড়িবাঁধ নির্মান,কল কারখানা স্হাপনে।
এই উপজেলার মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছে জিয়াউর রহমানের অবদান,বিএনপির অবদান।স্বৈরাচার সরকারের একতরফা নির্বাচন ছাড়া সবগুলোই ছিল উল্লেখযোগ্য ভোট,কখনো বিজয়,কখনো কাছাকাছি। এবারও বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন ধানের শীষ।
এদিকে জামায়াতে ইসলামের দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী আমাদের সময় কে বলেন,আমাদের আগেও নির্ধারিত ভোট ছিল,এবার নতুন প্রজন্ম ভোটারগুলো সহ অনেক বিএনপি জাতীয়পার্টি,আওয়ামী লীগের ভোট আমাদের দাড়িঁপাল্লায় পড়বে,
এতে আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ। তিনিও সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্নের আশাবাদী।
বিএনপি, জামায়াত ছাড়াও এই আসনে আরো ৬( ছয়) দল নির্বাচনে প্রতিযোগীতা করছে। এরা হলেন- বাংলাদেশ কমিনিষ্ট পার্টির কাস্তে মার্কায় মোঃ মছিউদদৌলা,গন সংহতি আন্দোলন এর বই প্রতীকে মোঃ জাহিদুল আলম,সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকে মোঃ শহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কায় মোঃ দিদারুল মাওলা, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির বই প্রতীকে মোঃ জাকারিয়া খালেদ,ও গনসংহতি আন্দোলনের মাতাল প্রতীকে ইন্জিঃ জাহিদুল আনোয়ার,গনঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে এটিএম পারভেজ নির্বাচনে লড়ছেন। এদের অনেককেই সীতাকুণ্ডবাসী পূর্বে রাজনৈতিক মাঠে দেখেনি,চিনেননা,তবে তারাও বলছে আমরা আগামীর জন্য পরিচিত হতে চাচ্ছি সীতাকুণ্ডবাসীর সাথে। আমাদের মধ্যেও এমপি হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে সবারকাছে।
সীতাকুণ্ড মোট ৪৮ টি কেন্দ্র রয়েছে উচ্চ ও মধ্য ঝুকি। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্হা করা হয়েছে বলে ইউএনও মোঃ ফখরুল ইসলাম আমাদের সময় কে জানিয়েছেন।