জসিম উদ্দীন ফারুকী,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভার মহাসড়কের পাশে ভ্রাম্যমান আদালতের উচ্ছেদ অভিযানে এক মুড়ি বিক্রেতাসহ ৭জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। কোনো পূর্ব সতর্কতা বা সুময় না দিয়ে দরিদ্র এসব মানুষকে সরাসরি জেলে পাঠানোয় স্থানীয় আইনজীবী ও সচেতন মহলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেইসবুকেও তীব্র ক্ষোভের বহিঃ প্রকাশ ঘটেছে। ফলে অসহায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পরিবারে অনাহার ও অর্ধহারসহ দিশেহারা হয়ে কান্নার রোল পড়েছে। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ৯২(১) ধারায় দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আব্দুল কুদ্দুস, আকতার হোসেন, মুড়ি বিক্রেতাসহ ৭ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে জেল, আইনজীবী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভমো. পারভেজ ও হাসান (প্রত্যেকে ২ মাস করে), সুমন দে (১৫ দিন), মো. হাসান (৭ দিন) ও মো. নুরুল আলম বাবুল (৫ দিন)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের সময় অসহায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রশাসনের পায়ে ধরে ক্ষমা চান। তারা মুচলেকা দিয়ে ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ঝন্টু চাকমা তা আমলে না নিয়ে সর্বোচ্চ সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। সাজাপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পরিবাররা জানান, সাজাপ্রাপ্ত সুমন দে একজন হৃদরোগী। প্রতিদিন মুড়ি বিক্রি করে মাত্র ২০০-৩০০ টাকা লাভে তার সংসার চলত। এখন তার পরিবার অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। ২ মাস সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল কুদ্দুস ভ্যানে করে জুতা বিক্রি করতেন এবং পারভেজ মহাসড়ক বড় হওয়ার পর দোকান হারিয়ে ফুটপাতে অল্প কিছু ফল নিয়ে বসতেন। তাদের স্বজনদের প্রশ্ন টাকা থাকলে কি আমরা ফুটপাতে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ব্যবসা করতো? জেলে পাঠানোর পর আইনিসহযোগীতা নেওয়ার জন্যও টাকা তো দুরের কথা এখন তাদের না খেয়ে মরা ছাড়া উপায় নেই। দোহাজারী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি বাদশা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর সরকারকে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করে। মহাসড়ক প্রশস্ত হওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা জায়গা হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। এসিল্যান্ড মাত্র ৩ মাস আগে উপজেলায় যোগদান করেছেন। তিনি একবারও সতর্ক না করে বা জরিমানা না করে সরাসরি সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন, যা কোনোভাবেই মানবিক প্রশাসনের কাজ হতে পারে না। এদিকে এই সাজাকে 'লঘু পাপে গুরুদন্ড' হিসেবে দেখছেন স্থানীয় আইনজীবীরা। তারা বলছেন, যেখানে বড় বড় মহাসড়কের পাশে প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের অনীহা দেখা যায়, সেখানে পেটের দায়ে লড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন ধ্বংস করা আইনের অপপ্রয়োগ। আইনি সহায়তা নিতে আসা পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সাজাপ্রাপ্তদের জেলহাজতে পাঠানোর পর মামলার নকল কপি (সার্টিফাইড কপি) সংগ্রহ করতে গেলেও এসিল্যান্ড কার্যালয় থেকে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছেন। অসহায় এসব মানুষের দ্রুত মুক্তি এবং প্রশাসনের এই বিতর্কিত ভূমিকার প্রতিবাদে দোহাজারী ও চন্দনাইশ জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
এব্যাপারে দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু চাকমা বলেন, দোহাজারী বাস স্টেশনে ফুটপাত দখল করে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যবসা করছেন যার ফলে মহাসড়কের যানযট সৃষ্টি হওয়ায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।