জসিম উদ্দীন ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১ বছরে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ৭৭৭শিশুর জন্ম হয়েছে। জন্মগ্রহণকারী সকল নবজাতকই সুস্থ্য স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছে। মূলত উপজেলাজুড়ে সরকারিভাবে স্বাভাবিক প্রসবে নারীদের উদ্বুদ্ধকরণের ফলে ৭৭৭ শিশুর জন্ম হয়ে স্বাভাবিক নিয়মে। খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ না হলে সিজার না করানোর চেষ্টা এবং ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির ফলে স্বাভাবিক প্রসবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষেরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদে সন্তান প্রসব করিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে। অন্যান্য চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রসূতি মা'দের ডেলিভারির হার স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে এখানে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে দিন দিন প্রসূতি মা'দের আস্থা বেড়েছে।
জানা যায়, গত এক বছরে স্বাভাবিক ডেলিভারির মাধ্যমে ৭৭৭ জন শিশু স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে। হয়েছে তবে ঝুঁকি থাকায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ৫৫ জন শিশুর জন্ম হয়েছে। এছাড়া গত জুলাই মাস থেকে সপ্তাহে একদিন আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাও প্রদান করা হচ্ছে। চন্দনাইশ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত প্রসূতিরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বল্প খরচে এই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন। এতে করে তাদের আর্থিক সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামে বা বেসরকারি হাসপাতালে সেবা নেয়ার বিরম্বনা কমেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সেবাপ্রার্থীরা।
জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৭৯, ফেব্রুয়ারি মাসে ৭৫, মার্চ মাসে ৭০, এপ্রিল মাসে ৮২. মে মাসে ৭২, জুন মাসে ৬১, জুলাই মাসে ৫৩, আগস্ট মাসে ৫৮, সেপ্টেম্বর মাসে ৬৩, অক্টোবর মাসে ৭০. নভেম্বর মাসে ৫৩, ডিসেম্বর মাসে ৪১ জন শিশুর স্বাভাবিক জন্ম হয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকল্পে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবার মান উন্নয়নের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দনাইশে যোগদানের পর থেকে সেবা সম্প্রসারণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেবার মান বাড়ায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ও প্রত্যাশা বেড়েছে। প্রত্যাশা ও চেষ্টার সম্মিলনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি সেবা আরো এগিয়ে যাবে। সীমিত সুবিধা নিয়েও রোগীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা যাতে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে না হয় এবং দালালদের খপ্পরে পড়ে ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, সেজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেলিভারি সেবা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।