আসুন সবার আগে আমরা আমাদের সীতাকুণ্ড, আমাদের জন্মভূমি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হই।
*আমাদের সীতাকুণ্ড এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে সমুদ্র-এই দুইয়ের মাঝে অবস্থিত সরু এই জনপদে বালি উত্তোলনের প্রভাব অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক হতে পারে।
সীতাকুণ্ডের প্রেক্ষাপটে বালি উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট ক্ষতি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ভূমিকা যদি আলোচনা করি:
১. সীতাকুণ্ডের জনবসতিতে সম্ভাব্য ক্ষতি:
* উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ধ্বংস: সীতাকুণ্ডের উপকূলে (যেমন- সোনাইছড়ি, কুমিরা,বাঁশবাড়ীয়া ও বাড়বকুণ্ড এলাকা) ঘূর্ণিঝড় ঠেকাতে বন বিভাগ যে ম্যানগ্রোভ বাগান করেছে, বালি উত্তোলনের ফলে তার নিচের মাটি সরে যায়। এতে গাছগুলো মারা যায় এবং ঘূর্ণিঝড় সরাসরি লোকালয়ে আঘাত করার সুযোগ পায়।
* শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও শিল্পের ঝুঁকি: সীতাকুণ্ডে অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানা ও শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে। বালি উত্তোলনের ফলে তীরের মাটি ধসে পড়লে এই বিলিয়ন ডলারের শিল্প অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে পারে।
* সীতাকুণ্ড-টেকনাফ ফল্ট লাইন: সীতাকুণ্ড এলাকাটি একটি সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের (Fault Line) ওপর অবস্থিত। সমুদ্রের তলদেশে বড় ধরনের পরিবর্তন ভূমিকম্পের সময় মাটির ধরণ পরিবর্তন (Soil Liquefaction) করে দিতে পারে, যা ঘরবাড়ির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
২. জনপ্রতিনিধি বা প্রার্থীরা কি এটি বন্ধ করতে পারেন?
হ্যাঁ, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (সংসদ সদস্য বা উপজেলা চেয়ারম্যান) চাইলে এটি বন্ধ করার ক্ষমতা রাখেন। বাংলাদেশে 'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০' অনুযায়ী:
* আইনি ক্ষমতা: জনপ্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসনকে (DC) সাথে নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ করতে পারেন।
* সংসদে ভূমিকা: তারা জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে জোরালো দাবি তুলে সীতাকুণ্ডের উপকূলকে 'সংরক্ষিত এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নিতে পারেন।
* স্থানীয় তদারকি: একজন প্রার্থীর যদি সদিচ্ছা থাকে, তবে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটকে এলাকা ছাড়া করতে পারেন। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব সিন্ডিকেট রাজনৈতিক আশ্রয়ে চলে।
*ভোটার হিসেবে আমাদের করণীয় ও সচেতনতা:
আমরা এলাকার মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থীদের কাছে নিচের প্রশ্নগুলো করি, তবে তা বড় পরিবর্তন আনবে, তাই আমরা সীতাকুণ্ডবাসী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার আগে সীতাকুণ্ডের যারা অবিভাবক হতে চান তাদেরকে সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ করার বিষয় অঙ্গীকার নিব, একই সাথে সীতাকুণ্ডের সকল সামাজিক ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার অঙ্গীকারও নিব অন্যথায় আমাদের মূল্যবান ভোট আমরা ওই প্রার্থীকে দিব না যারা আমাদের অঙ্গীকার দিবেনা।
#বালি উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে যেসব অঙ্গীকার গুলি আমরা পার্থক্য থেকে চাই:
* লিখিত অঙ্গীকার: প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহারে বালি উত্তোলন বন্ধের বিষয়টি স্পষ্টভাবে আছে কিনা?
*কঠোর অবস্থান: তিনি কি বালি উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিজ দলে প্রশ্রয় দেবেন না বলে কথা দিতে পারবেন কিনা?
* বিকল্প কর্মসংস্থান: বালি উত্তোলনের সাথে জড়িত শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কোনো কাজের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আছে কিনা?
#ভোটারদের প্রতি:
মনে রাখবেন ভোট আপনার পবিত্র আমানত। সীতাকুণ্ডের পরিবেশ ও আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য বালি উত্তোলন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং সৎ ও সাহসী ভূমিকা রাখা প্রার্থীকেই বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
নিবেদক:-
মোঃ দিদারুল আলম (দিদার)।
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।
#StopIllegalSandMining #সীতাকুণ্ড_বাঁচাও #savesitakunda #সচেতন_ভোটার #politics #Bangladesh #খালেদা_জিয়া #বিএনপি #শরিফ_ওসমান_হাদি #JamateIslami