সীতাকুণ্ড প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে একটি গরু ফার্ম থেকে ১২ টি গরু ডাকাতি করে নিয়ে গেল ডাকাত দল,একটি গরু দৌড়ে দূরে চলে যাওয়ায় ডাকাতের করল থেকে রক্ষা পেল।ঘটনাটি সীতাকুণ্ডের মধ্যম বাঁশবাড়িয়া এলাকায়।
গরুর ফার্ম মালিক ইসমাইল সাংবাদিকদের কে জানায়,গতকাল সোমবার রাত আড়াইটায় ১৮/২০ জনের একটি ডাকাত দল বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এন আই ডেইরী ফার্মে হানা দেয়।ডাকাতেরা টিনের বেড়া কেটে ভিতরে প্রবেশ করে ফার্মের মালিক ইসমাইলের রুমে গিয়ে তাকে অস্ত্র ধরে জিম্মি করে ফেলে,এরপর তার হাত- পা বেধে মোবাইল কেড়ে নেয়। চিৎকার করলে জবাই করার জন্য ভয় দেখায় দুইজনে।
বাকি ডাকাতগুলো ফার্মের গরুর রসিগুলো কেটে বাহির করে ট্রাকে তোলে।একটি গরু দৌড়ে দূরে চলে গেলে এইটাকে নিতে পারেনি। এসময় ফার্মের পাশে এক চা -দোকানদার লোকজনের আওয়াজ পেয়ে দোকানের বাহিরে বেরুলে তাকে ধরে জিম্মি করে ফেলে।
একপ্রর্যায়ে তার হাত - পা বেধে পার্শবর্তী পুকুরে ফেলে দেয়।সে কোনক্রমে অন্যপাড়ে উঠে প্রাণে বাঁচে।এসময়ে ডাকাত দল ট্রাক বোঝাই করে গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের সবার হাতে অস্ত্র ও লম্বা কিরিচ ছিল।
ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর ৯৯৯ নম্বরে কল করলে ২০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ আসলে বিস্তারিত বললে পুলিশ বিভিন্ন দিক গাড়ী তল্লাশী করলেও ডাকাতদলের হদিস মিলেনি।

ফার্মের অপর মালিক নজরুল ইসলাম জানায়,জমি বিক্রি ও ব্যাংক লোন করে গরুর ফার্ম দেই আমরা দুজনে, ডাকাতে নেয়া ১২ গরুর মধ্যে ৫ টি বড় জাতের গাভী থেকে প্রায় ৫০ লিটার দুধ পেতাম, এগুলো বিক্রি করে সংসার ও গরুর খাদ্য ক্রয়ের খরচ চলতো আমাদের, আমরা এখন পথে বসে গেছি, আমাদের প্রায় ২২/২৫ লক্ষ টাকার খোয়া গিয়ে পুজি হারালাম। ব্যাংক লোন দেবো কি করে।
এব্যাপারে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় ১৮/২০ জনের অজ্ঞাত আসামী দিয়ে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ গরু উদ্ধারে চেষ্টা করছে।
থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আলমগীর জানায়,গরু ডাকাতির সংবাদ শুনে সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্হলে গিয়ে বিস্তারিত শুনে মহাসড়কে তল্লাসী চালিয়েছে। গরু উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য,চলতি ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখে মহাসড়কের ভাটিয়ারী থেকে ডাকাতদল ২৮ টি গরু সহ একটি ট্রাক ছিন্তাই করে, কয়েকঘন্টা পর পুলিশ,জনতা বাড়বকুণ্ড চৌধুরীপাড়া এলাকা থেকে ক্রমান্যয়ে ২৮ টি গরুই বিভিন্নস্হান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পর পর এমন ডাকাতির ঘটনা ঘটে যাওয়ায় গরু খামারীরা ডাকাত আতংকে রয়েছে।