
মোঃ দিদারুল আলম (দিদার) নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
শেষ পর্যন্ত দেশের আপামর মানুষকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদি। হাদি চেয়েছিলেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশের আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখতে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করা ছিল তার আজীবন লালিত স্বপ্ন। বাংলাদেশের সকল আধিপত্যবাদের কবর রচনা ছিল হাদির চেতনা।
সেই শহীদ হাদির চেতনা ছুঁয়ে গিয়েছে দেশের লাখো লাখো মানুষকে। তাইতো তার জানাজায় লাখ লাখ মানুষ হাজির হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। হাদি হাসিমুখে বলেছিলেন, ঢাকা-৮ আসন থেকে যদি ৫০০ ভোট পান তবে তাতেই তিনি খুশি হবেন। এর নিচে যদি ভোট পান, তাহলে তার মন খারাপ হবে।
ঘাতকের বুলেট হাদির প্রাণ ছিনতাই করতে পারলেও, হাদির সেই ৫০০ ভোট কেড়ে নিতে পারেনি। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের প্রাঙ্গণে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের উপস্থিতি জানান দিয়ে গেল হাদির ৫০০ ভোট লাখো গুণে ফিরে এসেছে। তার প্রাণহীন দেহ ঠিকই পৌঁছেছিল সংসদ ভবনে, কিন্তু তখন হাদি পৌঁছে যান জাগতিক সংসদের অনেক ঊর্ধ্বে।
বিভিন্ন পর্যালোচনা বলছে, শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় উপস্থিত হন কয়েক লাখ মানুষ। তবে হাদির জানাজায় আসলে কত লোক সমাগম হয়েছে তা বাস্তবে সঠিকভাবে বলা কঠিন। বুয়েট থেকে জানাজায় অংশ নেয়া একদল শিক্ষার্থী তাদের একটি বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, হাদির জানাজায় প্রায় অন্তত ৮ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তারা বলছেন, নিজেদের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থেকে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত মানুষের সাথে কথা বলে তারা হিসাব করেছেন—শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় উপস্থিত মানুষ ১ লক্ষ ১৫ হাজার বর্গমিটারের মত জায়গা দখল করেছিলেন। এরকম ঘনত্বের জনসমাগমে উপস্থিত মোট মানুষের সংখ্যা এক মিলিয়ন বা ১০ লক্ষের কাছাকাছি হতে পারে।
একুশে টেলিভিশন সংসদ ভবনের আশপাশের এলাকার রাজউকের ডিটেইলড ম্যাপ ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে এবং ড্রোন ফুটেজের সাথে সমন্বয় করে দেখার চেষ্টা করেছে যে, জানাজায় উপস্থিতির আনুমানিক সংখ্যাটা আসলে কত। বিশ্লেষণে দেখা যায়—মানিক মিয়া এভিনিউ, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং তৎসংলগ্ন মাঠ, খামারবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক এবং আসাদ গেটের জনসমাগমের অংশ নিয়ে আনুমানিক ১ লক্ষ ৬৮ হাজার বর্গমিটার এলাকায় জমায়াত হয়েছিল। বাস্তব ঘনত্ব অনুসারে প্রতি বর্গমিটারে চারজন থেকে পাঁচজন হিসেব করলে সেখানে অন্তত ৬ লাখ ৭২ হাজার থেকে ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষের উপস্থিতি সম্ভব।
এছাড়া শুরুর দিকে ড্রোন শটগুলোতে সংসদ ভবনের পূর্বদিকের মাঠ খালি দেখা গেলেও, জানাজার পূর্বেই ওই মাঠও পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়। হাদির জানাজায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা আর মানিক মিয়া এভিনিউতে যে জনস্রোত নেমেছে, তা আসলে সঠিকভাবে গুণে বের করা দুষ্কর। এসব জনস্রোত গণনায় আয়তন হিসেবে স্ট্যাটিস্টিক্যাল ভাবে আনুমানিক বিচারই সারা বিশ্বে বেঞ্চমার্ক হিসেবে গৃহীত। সে হিসেবে শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় নিম্নে ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ এক মিলিয়ন পর্যন্ত উপস্থিতি হতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষকই মত দিচ্ছেন।
তবে সংখ্যাটা যতই হোক, ওসমান হাদি যে দেশের কোটি মানুষের মনে আলোড়ন তুলে ভালোবাসার একটা স্থান লাভ করেছেন, সেটা কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। তাইতো উপস্থিত জনস্রোত স্লোগান তুলেছিল— "আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব।" "আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব।"
মোঃ দিদারুল আলম (দিদার)