
মোঃ দিদারুল আলম (দিদার) নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নামাজে জানাজা শেষে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বের হবে এমন সময় চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে উপস্থিত ছাত্র-জনতা। তারা সবাই অ্যাম্বুলেন্স ধরে ‘হাদি ভাই, 'হাদি ভাই, আমাদেরকে রেখে তুমি একা কোথায় চলে যাচ্ছো, আমাদেরও নিয়ে যাও, তুমিতো আমাদের রেখে একা চলে যাওয়ার কথা ছিল না!’ বলে কান্নার আহাজারি করছিলেন। এসব বলতে বলতে গাড়ির পেছনে ছুটছিলেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা ও সহযোদ্ধারা। এভাবেই তারা শাহবাগ পর্যন্ত দৌড়ে আসেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে শবযাত্রায় অংশ নেয়া কাউকেই কবরস্থানের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক শোকস্তব্ধ জনসমুদ্রে। নামাজে জানাজার শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে দাফনের সময় মুনাজাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত মানুষ। চোখের জল, দোয়া আর ভারী নীরবতায় শেষ বিদায় জানানো হয় প্রিয় হাদিকে।
দাফন শেষে মুনাজাতে অংশগ্রহণ করেন কবরস্থান গেটের বাইরে অবস্থানরত স্বেচ্ছাসেবী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। দাফনের মুহূর্তে পুরো এলাকা নীরব হয়ে যায়। মুনাজাত শুরু হতেই অনেকেই আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কেউ দুই হাত তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ নিচুস্বরে কুরআনের আয়াত পড়তে থাকেন।
এ দিকে হাদির লাশবাহী গাড়ি কবরস্থান এলাকায় ঢোকার সময়ে অ্যাম্বুলেন্সের ছাদে দেখা গেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরকে। তারা মাইকের মাধ্যমে জনতাকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং লাশ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।
হাদির পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে আরো ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রিয়জনকে কবরে শায়িত করার শেষ মুহূর্তে স্ত্রী-স্বজন ও সহকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সহযোদ্ধারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চোখ মুছতে থাকেন। শেষ মুনাজাতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন- তিনি যেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন।
সাব্বির আহমেদ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী বলেন, আক্ষেপ নিয়েই হাদি ভাইকে বিদায় দিলাম। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, ছিলেন একটি বিশ্বাসের নাম। হাদি ভাইয়ের সাথে অসংখ্য দিন নির্বাচনী কাজ করা হয়েছে। হাদি ভাইয়ের স্মৃতিগুলো কোনোভাবেই ভোলা যাচ্ছে না। এই রকম হাদি আর কখনো ফিরে আসবে বলে মনে হয় না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অসংখ্য মানুষ গাড়ির সাথে হেঁটে যেতে শুরু করলে একাধিকবার যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও হিমশিম খেতে হয়। তবুও মানুষের ঢল থামেনি। ‘হাদি হাদি’ স্লোগানে পুরো এলাকা বারবার মুখরিত হয়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেয়ার পথে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, জনসমাগমের কারণে অতিরিক্ত সতর্কতা নেয়া হয়েছে যাতে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।