মোঃ মাইদুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম) ভুরুঙ্গামারী।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট, কালিহাট ও কান্দুরকুটি এলাকায় মরিচ ও বেগুন চাষে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়লেও কৃষি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা তদারকি না পাওয়ায় চাষিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জানান, নিজেদের মতো করে অথবা স্থানীয় কীটনাশক দোকানদারের পরামর্শে চাষাবাদ করতে হচ্ছে, যা ফলন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন।
কৃষকদের অভিযোগ—‘অফিসার দেখা মেলে না। মরিচ চাষি আহম্মদ আলী জানান, “৩২ শতক জমিতে ৪৫ দিনে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ফুল আসছে। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে এখনো কোনো অফিসার আসেনি। রাস্তায় একদিন একজন অফিসারের সঙ্গে দেখা হলে বললাম মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে—জমিতে এসে দেখার কথা বললে শুধু একটি ওষুধের নাম লিখে দিলেন। ওষুধ প্রয়োগ করলাম—কোনো লাভ হলো না। কৃষি অফিস থেকে কেউ এসে পরামর্শ দিলে ভালো ফলন পেতাম। আমাদের মরিচ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও যায়।”
কালিহাট চর এলাকার বেগুন চাষি ইউনুস আলী বলেন, “৪০ শতক জমি ২৫ হাজার টাকায় বর্গা নিয়ে বেগুন চাষ করেছি। দুই মাসে ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র ২২ হাজার টাকার। আশেপাশে শত শত একর জমিতে বেগুন চাষ হয়। সবাই দোকানদারের পরামর্শে চাষ করছে। কৃষি অফিসের কোনো অফিসার আসে না। সহযোগিতা না পেলে লাভের মুখ দেখা কঠিন।”
সোনাহাট দক্ষিণ মাঝচর এলাকার চাষি মোঃ সৈয়দ আলী বলেন, “৩২ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছি। চারপাশে অনেকে মরিচ-বেগুনসহ নানা সবজি চাষ করছে। কিন্তু কখনো কোনো কৃষি অফিসার দেখিনি।”
কান্দুরকুটির চাষি জিয়ার আলী জানান, “২৪ শতক জমিতে বেগুন চাষে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার। গাছ শক্ত হয়ে যাচ্ছে, বেশিরভাগেই পাকরা রোগ ধরেছে। কোনো পরামর্শ পাই না।”
মাহালম ইসলাম জানান, “১৬ শতক জমিতে ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, বিক্রি হয়েছে মাত্র ১২ হাজার। রোগ ধরে ফলন নষ্ট হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে কেউ না আসায় আমরা দিশেহারা। খরচই তুলতে পারছি না।”
উপজেলার চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের কৃষক মাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় ধানের আবাদ ভালো হয়নি। কোন কৃষি অফিসার যায় না।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সোনাহাট ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে হাবিব দায়িত্বে আছেন। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মূল দায়িত্বে আছেন আমিনুল ইসলাম। তিনিই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।
এছাড়া উপজেলার দায়িত্বরত উপ সহকারী কৃষি অফিসার পাথরডুবি ইউনিয়নের আবুল বাশার ও জীবন সরকার, শিলখুড়ি ইউনিয়নের শফিকুল, সাদ্দাম, তিলাই ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলম ও নুরুজ্জামান, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের শাহানুর আলম ও রাফসানুজ্জামান, ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের মঞ্জুরুল, মোস্তাফিজুর, জয়মনিরহাট ইউনিয়নের শহিদুল ও নাজনীন, আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের মাহমুদুল ও জুয়েল, বলদিয়া ইউনিয়নের মোস্তাফিজুর রহমান, চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নাজমুল, জামিল, শাহনেওয়াজ লোহানীসহ অন্যান্যরা দায়িত্বে আছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল জব্বার জানান, “আমি বর্তমানে ট্রেনিংয়ে আসছি। বর্তমান প্রনোদনা দেওয়া হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে অফিসাররা যাবে।”
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষি অফিসের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, ফসলের রোগ শনাক্তকরণ এবং সঠিক সময়ে পরামর্শ দিলে ক্ষতি কমে যেত এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেত। তাদের অনুরোধ—যাতে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা নিয়মিত খেত পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।