সীতাকুণ্ড প্রতিনিধিঃ
পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ হলেও তা একেবারেই কার্যকর হয়নি। মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও সীতাকুণ্ডে তা উপেক্ষা করে চলছে মাছ ধরার মহোৎসব। শত শত জেলে দিন রাত অবাধে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার করছেন।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানে টনে টনে মাছ জব্দ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সরকারি নিষেধাজ্ঞায় যদি জেলেরা মেনে চলতো তাহলে প্রতিদিন টনে টনে মাছ কিভাবে জব্দ করা হয়। ২২ দিন সাগরে না যেতে জেলেদের নিয়ে সভা, সেমিনার এবং সচেতনতা কোন কাজেই আসেনি।
স্থানীয়রা জানান, ইলিশ গোপনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। পুরো উপজেলার মধ্যে ইলিশ মাছ কেনার বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা জেলেদেরকে মোটা অংকের বিনিময়ে সাগরে পাঠান বোট নিয়ে। অভিযানে কোন জেলে আটক হলে সিন্ডিকেটের লোকজন আড়ালে থেকে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেখান থেকে বোট ছাড়া হয় সেখানে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই অবস্থিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই বেআইনি কর্মকাণ্ড চলছে। কুমিরা ঘাট এলাকা থেকে মাত্র ৩০০/৪০০ মিটার দুরে রয়েছে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি এবং বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড। অথচ তাদের সামনেই ৫০/৬০ টি বোট নিয়মিত মাছ শিকার করলেও তা তাদের নজরে পড়ে না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ্ বলেন, জনবল সংকট, পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকা এবং বাজেটের অভাবের কারণে পুরো উপজেলার কার্যক্রম মনিটর করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারপরও কোষ্টগার্ড ও নৌ পুলিশের সহযোগিতায় আমরা প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছি, জেল জরিমানা করা হচ্ছে।