
মোঃ দিদারুল আলম (দিদার) নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, ২০২৫ সালের বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম’র বক্তব্যের মূল সারাংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ছিল,
১. সূচনা:
বক্তব্য শুরু হয় ‘নারায়ে তাকবীর’ স্লোগানের মাধ্যমে। সভাপতি উল্লেখ করেন যে, ২০২৫ সাল ছিল তাদের জন্য নেয়ামতপূর্ণ, চ্যালেঞ্জিং এবং নতুন অভিজ্ঞতার বছর। তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এই বছরটি পার করার জন্য।
২. শহীদদের স্মরণ ও সংগঠনের ইতিহাস:
তিনি সংগঠনের ইতিহাসের কথা স্মরণ করে শহীদ আব্দুল মালেক, শহীদ মীর কাসেম আলী এবং শহীদ কামারুজ্জামানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই পথচলা পুষ্পবিছানো ছিল না, বরং ছিল কণ্টকাকীর্ণ। মীর কাসেম আলীর স্বপ্ন—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দ্বীন বিজয়ের স্বপ্ন—এখনো তাদের অনুপ্রাণিত করে।
৩. জুলাই-আগস্ট বিপ্লব ও আত্মত্যাগ:
জুলাই এবং আগস্ট মাসের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সময় অসংখ্য ভাই জীবন দিয়েছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ইন্টারনেট শাটডাউন এবং অফলাইনে যোগাযোগের কঠিন দিনগুলোর কথা তিনি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংগঠনের ৭ জন ভাই এখনো গুম আছেন (যেমন: আল মোকাদ্দাস ভাই), যাদের পরিবার এখনো তাদের অপেক্ষায় আছে।
৪. ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও কর্মী তৈরি:
তিনি বলেন, ছাত্রশিবিরের উদ্দেশ্য হলো আবু বকর, ওমর, খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং সালাউদ্দিন আইয়ুবীর মতো চরিত্রবান মানুষ তৈরি করা, যারা পৃথিবীতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।
৫. বিরোধীদের প্রতি উদারতা:
যারা বিরোধিতা করেন, তাদের প্রতি বিদ্বেষ না রেখে চারিত্রিক মাধুর্যতা দিয়ে তাদের মন জয় করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি তায়েফের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর উদারতা এবং ওয়াহশি ও খালিদ বিন ওয়ালিদের ইসলাম গ্রহণের উদাহরণ দেন।
৬. সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি:
জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের মাধ্যমে আসা সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও মেহনতি মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছেন। যদি তারা শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করেন বা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করেন, তবে ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “শহীদদের সাথে যদি কোনো গাদ্দারি হয়… আমরা শহীদদের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ হতে দিব না।”
৭. বিচার ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র:
তিনি শহীদ ওসমান বিন হাদি এবং তেজগাঁও কলেজের সাকিবুল হাসান রানা হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সীমান্তে চেকপোস্ট থাকার পরেও কিভাবে খুনিরা দেশত্যাগ করে? তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “দিল্লি না ঢাকা” এবং কোনো “ডিপ স্টেট” বা কায়েমী স্বার্থের দ্বারা বাংলাদেশ পরিচালিত হবে না।
৮. স্লোগান ও সমাপ্তি:
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সমবেতদের নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন:
* “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা”
* “গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি”
* “আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম”
* “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”
ওনি বক্তব্যটি শেষ করেন, পরকালের মুক্তির জন্য দোয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশাবাদের মধ্য দিয়ে।
WWW.DESHENEWS24.COM/REGISTRATION NO-52472/2024
Leave a Reply